Biriyani recipe ingredients list ✓ বিরিয়ানি রেসিপির উপকরণ তালিকা
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি উপকরণ লিস্ট
চিকেন বিরিয়ানি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো (১ কেজি মাংস ও চালের জন্য):
মূল উপকরণ:
চিকেন: ১ কেজি (মাঝারি টুকরো করা)
বাসমতি চাল: ১ কেজি (ভালোভাবে ধুয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা)
পেঁয়াজ: আধা কেজি (পাতলা কুচি করা, বেরেস্তার জন্য)
টক দই: ১ কাপ (ফেটানো)
আলু: ৪-৫টি (মাঝারি মাপের, দুই টুকরো করে ভাজা - ঐচ্ছিক)
ঘি ও তেল: পরিমাণমতো
মসলাপাতি:
আদা বাটা: ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা: ২ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ গুঁড়ো: ১-২ চা চামচ (স্বাদমতো)
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
বিরিয়ানি মসলা: ২-৩ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদ অনুযায়ী
গোটা গরম মসলা (চাল সেদ্ধ ও মাংসের জন্য):
তেজপাতা: ২-৩টি
এলাচ: ৫-৬টি
দারুচিনি: ২-৩ টুকরো
লবঙ্গ: ৪-৫টি
শাহী জিরা: আধা চা চামচ
সুগন্ধি ও সাজানোর জন্য:
দুধ: আধা কাপ (সামান্য জাফরান বা ফুড কালার মেশানো)
কেওড়া জল ও গোলাপ জল: ১ চা চামচ করে
মিঠা আতর: ২-৩ ফোঁটা (ঐচ্ছিক)
কাঁচা মরিচ: ৫-৬টি
ধনেপাতা ও পুদিনা পাতা কুচি: অল্প পরিমাণে
হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি রেসিপি উপকরণ এবং রান্না করার পদ্ধতি
হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি (বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানি) তার সুগন্ধ এবং রান্নার বিশেষ পদ্ধতির জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। নিচে হায়দ্রাবাদি চিকেন বিরিয়ানির উপকরণ এবং বিস্তারিত রান্নার পদ্ধতি দেওয়া হলো:
প্রয়োজনীয় উপকরণ (১ কেজি মাংস ও চালের জন্য):
মাংস ম্যারিনেশনের জন্য:
চিকেন: ১ কেজি (বড় টুকরো করা)
টক দই: ১.৫ কাপ (ফেটানো)
আদা-রসুন বাটা: ৩ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা: ১.৫ কাপ (পেঁয়াজ কুচি লাল করে ভাজা)
লাল মরিচ গুঁড়ো: ১.৫ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
শাহী বিরিয়ানি মসলা: ২ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ বাটা: ১ টেবিল চামচ
লেবুর রস: ১টি বড় লেবুর
পুদিনা ও ধনেপাতা কুচি: আধা কাপ করে
তেল ও ঘি: ১/৪ কাপ করে (বেরেস্তা ভাজা তেল ব্যবহার করলে স্বাদ ভালো হয়)
লবণ: স্বাদমতো
ভাত তৈরির জন্য:
বাসমতি চাল: ১ কেজি (৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা)
গোটা গরম মসলা: তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, শাহী জিরা
লবণ: পরিমাণমতো (জল নোনতা হতে হবে)
সাদা তেল: ১ টেবিল চামচ
সাজানোর (Layering) জন্য:
জাফরান বা ফুড কালার: সামান্য (দুধে ভেজানো)
ঘি: ২ টেবিল চামচ
কেওড়া জল ও গোলাপ জল: সামান্য
আটা বা ফয়েল পেপার: হাঁড়ির মুখ বন্ধ করার জন্য (দম দেওয়ার জন্য)
রান্নার পদ্ধতি:
ধাপ ১: মাংস ম্যারিনেশন
একটি বড় পাত্রে ধুয়ে রাখা চিকেন নিন। এতে টক দই, আদা-রসুন বাটা, কাঁচা মরিচ বাটা, সব গুঁড়ো মসলা, বিরিয়ানি মসলা, অর্ধেকটা বেরেস্তা, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা, লেবুর রস, তেল, ঘি এবং লবণ দিয়ে খুব ভালো করে মাখিয়ে নিন। এটি অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা (সম্ভব হলে সারারাত) ফ্রিজে রেখে দিন।
ধাপ ২: চাল তৈরি
একটি বড় হাঁড়িতে প্রচুর জল গরম দিন। তাতে গোটা গরম মসলা, তেল এবং পর্যাপ্ত লবণ দিন। জল ফুটে উঠলে ভিজিয়ে রাখা চাল দিন। চাল যখন ৬০-৭০% সেদ্ধ হবে (টিপলে শক্ত থাকবে কিন্তু মাঝখানে সাদা অংশ থাকবে না), তখন জল ঝরিয়ে চাল তুলে নিন।
ধাপ ৩: লেয়ারিং বা সাজানো
যে ভারী পাত্রে বিরিয়ানি রান্না করবেন, তার নিচে প্রথমে ম্যারিনেট করা কাঁচা মাংস মসলাসহ বিছিয়ে দিন। এর ওপর অর্ধেক সেদ্ধ করা গরম চাল সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। চালের ওপর বাকি বেরেস্তা, পুদিনা পাতা, ধনেপাতা, জাফরান মেশানো দুধ এবং ঘি ছড়িয়ে দিন।
ধাপ ৪: দম দেওয়া
হাঁড়ির মুখ ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে আটা মেখে চারপাশে সিল করে দিন অথবা সিলভার ফয়েল দিয়ে ভালো করে আটকে দিন যাতে বাষ্প বের হতে না পারে।
প্রথমে ১০ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করুন।
এরপর চুলার ওপর একটি তাওয়া বসিয়ে তার ওপর হাঁড়িটি রাখুন এবং একদম কম আঁচে (Low Flame) ৪০-৫০ মিনিট দমে রাখুন।
ধাপ ৫: পরিবেশন
রান্না শেষ হলে চুলা বন্ধ করে আরও ১৫ মিনিট ওভাবেই রেখে দিন। এরপর ঢাকনা খুলে একপাশ থেকে সাবধানে ভাত ও মাংস মিশিয়ে গরম গরম রায়তার সাথে পরিবেশন করুন চমৎকার স্বাদের হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি।
মটন বিরিয়ানি রেসিপি উপকরণ এবং লিস্ট
ঠিক আছে, আমি মটন বিরিয়ানির প্রয়োজনীয় সব উপকরণের একটি তালিকা নিচে দিচ্ছি:
মটন বিরিয়ানি শপিং লিস্ট (১ কেজি মাংসের জন্য):
প্রধান উপকরণ:
মটন: ১ কেজি (চর্বিসহ বড় টুকরো করা)
বাসমতি চাল: ৭৫০ গ্রাম থেকে ১ কেজি (ভালো মানের)
টক দই: ১ কাপ (ফেটানো)
পেঁয়াজ: আধা কেজি (বেরেস্তার জন্য)
আলু: ৪-৫টি (বড় টুকরো করে কাটা)
ঘি ও সাদা তেল: পরিমাণমতো
মসলাপাতি:
আদা বাটা: ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা: ২ টেবিল চামচ
লাল মরিচ গুঁড়ো: ১.৫ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)
হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
বিরিয়ানি মসলা: ৩ টেবিল চামচ
লবণ: স্বাদ অনুযায়ী
গোটা গরম মসলা:
তেজপাতা: ৩-৪টি
এলাচ: ৫-৬টি
দারুচিনি: ৩-৪ টুকরো
লবঙ্গ: ৫-৬টি
শাহী জিরা: আধা চা চামচ
সুগন্ধি ও সাজানোর জন্য:
তরল দুধ: আধা কাপ (সামান্য জাফরান বা ফুড কালার মেশানো)
কেওড়া জল ও গোলাপ জল: ১ চা চামচ করে
মিঠা আতর: ২ ফোঁটা
পুদিনা পাতা ও ধনেপাতা কুচি: সামান্য
কাঁচা মরিচ: ৫-৬টি
বিরিয়ানি কত প্রকারের ভাবে বানানো যায় এবং তার নাম
বিরিয়ানি এমন এক খাবার যা অঞ্চল, সংস্কৃতি এবং রান্নার পদ্ধতি ভেদে শত শত রকমের হতে পারে। তবে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রধানত তিনভাবে বিরিয়ানি ভাগ করা যায়:
১. রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী (Technique based):
কাচ্চি বিরিয়ানি (Kacchi Biryani): মাংস কাঁচা অবস্থায় মসলা দিয়ে মাখিয়ে তার ওপর আধা-সেদ্ধ চাল দিয়ে দমে রান্না করা হয়। (যেমন: পুরান ঢাকার কাচ্চি বা হায়দ্রাবাদি কাচ্চি)।
পাক্কি বিরিয়ানি (Pakki Biryani): মাংস এবং চাল আলাদাভাবে সম্পূর্ণ বা আংশিক রান্না করে নিয়ে তারপর স্তরে স্তরে সাজিয়ে দমে দেওয়া হয়। (যেমন: লখনউই বা কলকাতা বিরিয়ানি)।
তেহারি (Tehari): এটি বিরিয়ানির একটি সাধারণ রূপ যেখানে মাংস এবং চাল একসাথে কষিয়ে রান্না করা হয়। সাধারণত গরুর মাংস দিয়ে এটি বেশি জনপ্রিয়।
২. অঞ্চল বা স্টাইল অনুযায়ী জনপ্রিয় নাম:
ভারত ও বাংলাদেশে বিরিয়ানির অনেকগুলো বৈচিত্র্য রয়েছে:
| বিরিয়ানির নাম | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
| হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি | এটি প্রচণ্ড মশলাদার এবং কাচ্চি পদ্ধতিতে রান্না করা হয়। |
| কলকাতা বিরিয়ানি | লখনউই ঘরানার হলেও এতে আলু এবং সেদ্ধ ডিম থাকা বাধ্যতামূলক। স্বাদ কিছুটা মিষ্টি ও সুগন্ধি। |
| ঢাকা/পুরান ঢাকার কাচ্চি | খাসির মাংসের সাথে ঘি এবং বাসমতি বা চিনিগুঁড়া চালের দুর্দান্ত মেলবন্ধন। |
| লখনউই (আওয়াধি) বিরিয়ানি | মসলা কম থাকে, সুগন্ধ বেশি হয়। এটি পাক্কি পদ্ধতিতে রান্না করা অত্যন্ত রাজকীয় খাবার। |
| ডনডিকাল বিরিয়ানি (তামিলনাড়ু) | এতে বিশেষ ছোট চাল (সিরাগা সাম্বা) ব্যবহার করা হয়। |
| মালাবার বিরিয়ানি (কেরালা) | ছোট চাল এবং কাজু-কিশমিশের ব্যবহার এই বিরিয়ানিকে আলাদা করে। |
| সিন্ধি বিরিয়ানি (পাকিস্তান) | এটি বেশ ঝাল এবং এতে আলু ও আলুবোখারা ব্যবহার করা হয়। |
| মেমোনি বিরিয়ানি | সিন্ধি বিরিয়ানির মতো হলেও এটি সাধারণত গরুর মাংস দিয়ে বেশি তৈরি হয়। |
৩. উপাদানের ভিত্তিতে:
মাংস বা সবজির ওপর ভিত্তি করেও নাম আলাদা হয়:
মটন বিরিয়ানি: খাসির মাংস দিয়ে।
চিকেন বিরিয়ানি: মুরগির মাংস দিয়ে।
বিফ বিরিয়ানি: গরুর মাংস দিয়ে।
এগ বিরিয়ানি: শুধু ডিম ও আলু দিয়ে।
ভেজ বিরিয়ানি: বিভিন্ন সবজি ও পনির দিয়ে (অনেকে একে 'পলাউ' বলতে পছন্দ করেন)।
ফিশ/প্রন বিরিয়ানি: মাছ বা চিংড়ি মাছ দিয়ে তৈরি বিশেষ পদ।
ভারতের বিখ্যাত বিরিয়ানি রেসিপি গুলির নাম
ভারতের বিরিয়ানি তার বৈচিত্র্য এবং স্বাদের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। অঞ্চলভেদে রান্নার ধরন ও মশলার ব্যবহারে ভারতের বিখ্যাত বিরিয়ানিগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ভারতের সেরা ১০টি বিখ্যাত বিরিয়ানি:
| বিরিয়ানির নাম | অঞ্চলের নাম | বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
| হায়দ্রাবাদি কাচ্চি বিরিয়ানি | তেলেঙ্গানা (হায়দ্রাবাদ) | এটি ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয়। কাঁচা মাংস মশলা দিয়ে মাখিয়ে চালের স্তরে দমে রান্না করা হয়। এটি বেশ ঝাল ও মশলাদার। |
| লখনউই (আওয়াধি) বিরিয়ানি | উত্তরপ্রদেশ (লখনউ) | এটি 'পাক্কি' পদ্ধতিতে রান্না হয়। মশলা কম থাকে কিন্তু সুগন্ধ (আতর-কেওড়া) বেশি থাকে। এর স্বাদ অত্যন্ত রাজকীয়। |
| কলকাতা বিরিয়ানি | পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা) | লখনউই ঘরানার হলেও এর প্রধান আকর্ষণ হলো সেদ্ধ আলু ও ডিম। এটি স্বাদে কিছুটা মিষ্টি এবং হালকা মশলার হয়। |
| মালাবার (থ্যালসেরি) বিরিয়ানি | কেরালা | এতে বাসমতি চালের বদলে ছোট দানার খায়মা (Khaima/Jeerakasala) চাল ব্যবহার করা হয়। প্রচুর কাজু ও কিশমিশ দেওয়া থাকে। |
| আমবুর বিরিয়ানি | তামিলনাড়ু | এটি মাঝারি ঝাল এবং বাসমতি চালের বদলে সিরাগা সাম্বা (Seeraga Samba) চাল দিয়ে তৈরি হয়। |
| ডিন্ডিগুল বিরিয়ানি | তামিলনাড়ু | এটিও ছোট চাল দিয়ে তৈরি। এর স্বাদ কিছুটা টক হয় কারণ এতে দই ও লেবুর রস বেশি ব্যবহার করা হয়। |
| ভাটকাল বিরিয়ানি | কর্ণাটক (উপকূলীয় অঞ্চল) | এতে পিঁয়াজ এবং কাঁচা মরিচ বেশি ব্যবহার করা হয় এবং কোনো রঙ বা জাফরান ব্যবহার করা হয় না। |
| ভোপালি বিরিয়ানি | মধ্যপ্রদেশ | এটি লখনউই বিরিয়ানির মতো হলেও এতে প্রচুর পরিমাণে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়, যা একে সতেজ স্বাদ দেয়। |
| মেমোনি বিরিয়ানি | গুজরাট/সিন্ধি অঞ্চল | এটি প্রচণ্ড ঝাল হয় এবং এতে খাসির মাংসের সাথে প্রচুর আলু ও টমেটো ব্যবহার করা হয়। |
| কল্যানী বিরিয়ানি | হায়দ্রাবাদ (গরুর মাংস) | এটি হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানির একটি সাশ্রয়ী সংস্করণ, যা মূলত মহিষ বা গরুর মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়। একে 'গরিবের হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি' বলা হয়। |
একটি মজার তথ্য:
লর্ড ক্লাইভের আমলে লখনউ থেকে বহিষ্কৃত নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ যখন কলকাতায় আসেন, তখন মাংসের আকাল দেখা দেয়। ফলে খরচ কমাতে মাংসের পরিমাণ কমিয়ে আলুর ব্যবহার শুরু হয়, যা আজ কলকাতা বিরিয়ানির ট্রেডমার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url